টলিপাড়ার এমন 5 নারী, যাদের নামে নারী দিবস সার্থক:

সিনেবাংলা ডেস্ক: প্রতীক্ষা ঘোষ: ” আমরা নারী আমরা পারি” এই কথাটাই এখন প্রতিটি নারীর মুখে মুখে,নারী বলতে এখন শুধুই গোবেচারা বেচারী নয়। একটা নারী যেমন অসাধারণ মা তেমন অতুলনীয় বন্ধু তেমনই একজন ভালো সহধর্মিনী। 

               নারীরূপ বা মাতৃরূপ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রূপ। কারণ তারা “মা”। মা বলতেই আমাদের সকলের চোখের সামনে একজন দশোভূজার চিত্র ফুটে ওঠে। যে সমস্ত সংসার একা হাতে সামলানো থেকে শুরু করে সকলের ভালো-মন্দের খেয়াল রাখা তার একার দ্বারা সম্ভব। 
          কোন কোন মা আবার বাইরে ও ঘর দুটোই একসাথে সামলাচ্ছে। কিন্তু ওই যে আমরা নারী আমরা পারি। পৃথিবীর কোন কাজে আমাদের কাছে অসম্ভব নয়। সেটা যুদ্ধ বিমান চালানো হোক অথবা এই ভয়ংকর ভাইরাসের বিরুদ্ধে 18 ঘন্টা পিপিই কিট পড়ে মানুষের নিরন্তর সেবা করা হোক, একটা সংসারের তিন বেলা সকলের পছন্দের খাবার বানানো হোক অথবা বাড়িটাকে পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা হোক সবেতেই নারীর কোনো তুলনা নেই। আর নতুন প্রান সৃষ্টির কথা নাইবা বললাম। 
            সেই ষাটের দশক থেকে নারীরা নিজেকে প্রমাণ করে আসছে যেমন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী প্রথম মহিলা ডাক্তার আবার প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা কে বা না শুনেছে। 
                এখন মেয়েরা প্লেন উড়াচ্ছে,যুদ্ধে যাচ্ছে পুরুষদের সাথে তালে তাল মিলিয়ে একসাথে হাঁটছে। 
        বর্তমানেও তেমন কিছু নারীর দেখা মেলে আমাদের বিনোদন জগতে যারা রিয়েল লাইফের সাথে সাথে রিয়েল লাইফে নিজেদের কে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছে। তেমনি কয়েকজনের সম্পর্কে আজকে বলবো. ……. 
•ঐন্দ্রিলা* *শর্মা*:- আজকের দিনে ঐন্দ্রিলা শর্মা কথা কে বা না জানে। দুর্দান্ত মনশক্তি ও প্রাণশক্তি অপর নাম ঐন্দ্রিলা শর্মা। ক্লাস ইলেভেনে পড়াকালীন মারণ রোগে আক্রান্ত হয় সে ,কিন্তু তার মনোবল ও প্রানো বল দিয়ে লড়ে পিঠে আবারও অভিনয় জগতে ফিরে আসে অভিনেত্রী ভালোই চলছিল তার জীবন হঠাৎ 2021 সালে আবারো তার জীবনে নিয়ে আসে সেই কালো দিন গুলি আবার রোগে আক্রান্ত হয় এই মিষ্টি মেয়েটি। কিন্তু কোনো রোগই বাঁচার অদমব্য ইচ্ছার কাছে কিছুই নয় সেটা দ্বিতীয়বার প্রমাণ করে দিয়েছে ঐন্দ্রিলা শর্মা। ক্যান্সার তার অর্ধেক ফুসফুস কেড়ে নিলেও কেড়ে নিতে পারেনি তার মুখের মিষ্টি হাসিটিকে,কেড়ে নিতে পারেনি তার অভিনয় জগতে ফিরে আসার খিদেটিকে, কেড়ে নিতে পারেনি তার বাঁচার ইচ্ছাটিকে। তাইতো সেই মরণ রোগকে সারিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরে এসেছে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। উদাহরণ হয়ে উঠেছে হাজার মেয়ে ও ক্যান্সার পেশেন্টদের কাছে।তাইএই নারী দিবসে তাকে আমাদের সকলের তরফ থেকে একটা স্যালুট না দিলে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 
•সন্দীপ্তা **সেন*:- পর্দায় এখনো তাকে দুর্গা বললে হয়তো মানুষ বেশি চিনবে কিংবা টাপুর বা নন্দিনী বললেও ভুল হয় না। লকডাউনে যখন মানুষ নিজের পেটের সাথে ও নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে লড় ছিল ঠিক তখনই এই অভিনেত্রী এগিয়ে আসে সেইসব মানুষদের পাশে যারা মানসিক ভাবেও নিজেরা নিজেদের সাথে লড়ছে। আজকালকার দিনে আমরা বাহ্যিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড্ড বেশি উৎসুক কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের কারোরই তেমন চিন্তা-ভাবনা নেই ,তবে এটাই সব থেকে জরুরি।আর মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন করতে ও তাঁদের উপকার করতে এগিয়ে আসে এই অভিনেত্রী।তাই এই নারী দিবসে তাকে একবার স্মরণ না করলে হয় নাকি। 
•সৌমিতৃষা* *কুন্ডু*:- এটি এমন একটি নাম যাকে হয়তো মিঠাই বললে সবাই একবারে চিনবে। জি বাংলার পর্দায় রোজ রাত আটটায় যাকে দেখার জন্য মানুষ অপেক্ষা করে বসে থাকে সেই সৌমিতৃষা তবে একটি বাচ্চা মেয়ে সবে 21 পেরিয়ে ২২এ পড়ল সে। মিঠাই ধারাবাহিক তাকে ভালোই জনপ্রিয়তা দিয়েছে ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠেছে হাজারো পশ্চিমবঙ্গবাসীর এই নারী দিবসে তাকেও অনেক শুভেচ্ছা। 

•সোলাঙ্কি* *রায়*:- ধারাবাহিক দিয়ে তার অভিনয় জীবনের সূচনা হলেও বর্তমানে বাংলা ধারাবাহিক ও বাংলা সিনেমায় এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি মুক্তি পায় তার প্রথম ডেবিউ ফিল্ম ” বাবা বেবি ও” তার সাথে তার সহ-অভিনেতা ছিল যীশু সেনগুপ্ত। বড় পর্দায় তার প্রথম ছবি মানুষের মন জয় করে নেয়। তার সাথে চলছে তার ধারাবাহিক ও। সেটাও মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। তার ধারাবাহিক আছে টিআরপি লিস্টের এক নম্বরে। আগেও তার ধারাবাহিক প্রথম মহিলা ডাক্তার কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর চরিত্র তাকে প্রচুর সুখবাদ এনে দিয়েছে। বলাই বাহুল্য বড়পর্দা হোক অথবা ছোট পর্দা সবেতেই এক নম্বরে এই অভিনেত্রী তাই আজকের নারী দিবসে অসংখ্য শুভেচ্ছা তাকে। 

•শ্রুতি **দাস*:- ” কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, আর যা বলে বলুক অন্য লোক।

দেখেছিলেম ময়নাপাড়ার মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
মাথার ‘পরে দেয় নি তুলে বাস, লজ্জা পাবার পায় নি অবকাশ”…….. এসব গানের কলিতে ভালো লাগলেও আমরা এখনো কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত, এখনো আমরা মানুষের বিচার তার গায়ের রং দিয়ে করে থাকি, তার যোগ্যতা পড়ে বিচার করে থাকি, তেমনি একজন অভিনেত্রী হল শ্রুতি দাস। তার ধারাবাহিক মানুষের খুব পছন্দ হলেও সকলের কাছে বারবার তাকে ছোট হতে হয় তার গায়ের রং এর জন্য তবে সে একাই যথেষ্ট তার নিজের এবং বাকি মেয়েদের হয়ে প্রতিবাদ করার জন্য। মানুষের গায়ের রং যে তার পরিচয় হতে পারে না সেটা বারবার প্রমাণ করে দেয় শ্রুতি, তাই এই নারী দিবসে অসাধারণ মনোবল যুক্ত এই অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা।

Leave a Comment