Rahool Mukherjee:“ঠাকুরকে প্রশ্ন করেছিলাম সহজে কিভাবে আত্মহত্যা করা যায়।” তারপর কিভাবে “কিশমিশ”(Kishmish) তৈরি করলেন রাহুল (Rahul Mukharjee) ?

সিনে বাংলা ডেস্ক: জীবন যুদ্ধে একাধিক বার হারের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন “কিশমিশ”(Kishmish) পরিচালক ও লেখক রাহুল মুখার্জি (Rahool Mukharjee)(Rahul Mukherjee) । খেলাধুলার বয়সে জানতে পেরেছিলেন বাবা মায়ের সম্পর্ক ভাঙনের কথা। বেছে নিয়েছিলেন মাকে। ঠাকুরনগরে একটি ছোট্ট ঘরে মায়ের সাথে থেকে বড়ো হয়েছেন রাহুল।পরে উচ্চমাধ্যমিকের পর কলেজের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। এবং সেটা বলতে কোনো লজ্জা বোধ করেননা তিনি। তার মতে ডিগ্রি, সার্টিফিকেটই সব নয়।

মাকে নিয়ে সংসার চালানোর জন্য এক সময় গাড়ি ধোয়া, পোস্টার লাগানোর মতো সব রকম কাজ করেছেন রাহুল। একটা সময় পর তিনি স্টুডিও পাড়ায় গিয়ে নানা ভাবে অনুরোধ করতেন কোনো ভাবে সেখানকার মেম্বার হওয়ার জন্য, সেটা চা জলখাবার দেওয়ার কাজ হলেও চলতো তার কিন্তু বারংবার সকলের থেকে প্রতারিত হয়েছেন তিনি ,অনেকে আবার নানা ভাবে ভুল বুঝিয়েছেন।

টাকার অভাবে একটা কাজের জন্য এভাবেই রোজ ঠাকুরপুকুর(Thakurpukur) থেকে টালিগঞ্জ (Tollygunge)হেঁটে যাতায়াত করতেন তিনি।যা টাকা থাকত তা থেকে শুধুমাত্র চা আর বিস্কুট খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মায়ের জন্য ফুলুরিরির তরকারি আর মুড়ি নিয়ে যেতেন এবং মাকে বলতেন স্টুডিও থেকে পেট ভরে খেয়ে এসেছেন। তার একটি বায়োগ্রাফি ভিডিওতে নিজের জীবনের গল্প নিজেই বলেছেন রাহুল।

তারপর হঠাৎ একদিন (আগে রাজকুমার যাদব) রাজকুমার রাও (Rajkumar Rao) কে নিয়ে বড়ো ছবি বানানোর সুযোগ পান রাহুল। ছবির নাম “আমি সায়রা বানু” (Ami Saira Banu) । কিন্তু কয়েকদিন শুটিং এর পর ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আর “আমি সায়রা বানু” তৈরি করতে পারেননি । আবার জীবনে হেরে যাচ্ছিলেন রাহুল। সমস্ত কাছের মানুষ দূরে সরে যেতে লেগেছিল। এমনকি প্রেমিকাও সেই সময় একটি চিরকুট‌ে লিখে দিয়েছিলেন, “তুই কখনও ডিরেক্টর হতে পারবি না”। বহু বছর চিরকুটটা পকেটে নিয়ে ঘুরছেন রাহুল। অসহায় অবস্থায় ঠাকুরের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে সহজ আত্মহত্যা করা যায়। সামনে আসতে থাকা বাসের সামনে ঝাপ দিয়ে জীবন শেষ করার মুহূর্তে একটি ফোন কল তাকে আবার জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। আবারও ছোটো বড়ো সব রকম কাজের সাথে যুক্ত হন এবং নিজের লেখালেখির উপর মন দেন।

এভাবেই চলতে চলতে ২০১৯ এর এক রাতে বোম্বাই থেকে ফেরার সময় তার কাছে ফোন আসে অভিন‌েতা খরাজ মুখার্জির (Kharaj Mukherjee) । সেদিন তিনি বলেছিলেন, “তোর কিশমিশ এর গল্পটা আমার ভালো লেগেছে। চল করে ফেলি। একজন প্রযোজকের সাথে আমার কথা হয়ে গেছে।” এরপরই রাত আড়াইটে নাগাদ ফোন করেন সুপারস্টার দেব। কথা হয় তার সাথেও। তারপর অবশেষে রাহুল দেব (Dev ) – রুক্মিণীকে (Rukmini) নিয়ে তৈরি করে ফেলেন“ কিশমিশ” (Kishmish) । ঘুরে দাঁড়ান জীবনে। ছবিটি দর্শকরা বেশ পছন্দ ও করেছেন।

Leave a Comment