Jeet: হঠাৎ ইন্ডাস্ট্রির সাথে কেনো এত দূরত্ব বাড়লো একসময়ের টলিউড কাঁপানো জিতের

একবিংশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির (industry) তখন ভরাডুবি অবস্থা, সেই সময় যিনি এগিয়ে এসে হাল ধরেছিলেন, তিনি হলেন আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা (actor) জিত (jeet) অর্থাৎ জিতেন্দ্র মদনানী (Jeetendra Madnani)। ২০০১ সালে ‘চান্দু’ (Chandu) নামে একটি তেলেগু সিনেমার (telegu movie) মধ্যে দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে সেই ছবিটি খুব বেশী জনপ্রিয়তা অর্জন করতে করতে পারিনি। এরপর ২০০২ (2002) সালে প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর (Priyanka Trivedi) সাথে জোট বেঁধে রিলিজ হয় সাথী (sathi) ছবিটি। এই সিনেমার ‘ও বন্ধু তুমি শুনতে কী পাও’ (o bondhu tumi shunte ki pao) গানটি (song) আজও ঘোরে দর্শকদের (audiance) মুখে মুখে।

ছবি: সাথী ছবির পোস্টার

একসম জিৎ (jeet) আর কোয়েল‌ মল্লিকের (koyel Mallick) জুটি ছিলো ভীষণ জনপ্রিয় (very famous)। তারা একসাথে ‘বন্ধন’ (Bandhan), ‘সাত পাকে বাঁধা’ (Sat panke bandha), ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট লাভ’ (100% love), ‘দুই‌‌ পৃথিবী’ (Dui prithibite), ‘নাটের গুরু’ (Nater guru), ‘হিরো’ (Hero), ‘শেষ থেকে শুরু’ (Sesh theke suru), ‘ঘাতক’ (Ghatak), ‘শুভদৃষ্টি’ (Shubhodristi), ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ (besh korechi prem korechi) ইত্যাদি সহ বহু সিনেমায় (cinema) অভিনয় (acting) করেছেন তারা। তাদের জুঁটি টলি পাড়ায় প্রবল চর্চিত ছিলো। এমনটাও মনে করা হতো যে তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।

এছাড়াও শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী-র (Shrabanti Chaterjee) সঙ্গে অভিনীত ‘জোশ’ (Josh), ‘দিওয়ানা’ (Deewana), ‘ওয়ান্টেড’ (wanted), ‘ওয়ার’ (war), ‘চ্যাম্পিয়ন’ (champion) প্রভৃতি ছবিও প্রবল জনপ্রিয় (famous)। এছাড়াও নুসরত জাহানের (Nusrat Jahan) সঙ্গে ‘শত্রু’ (Shotru), ‘পাওয়ার’ (power); স্বস্তিকা মুখার্জির (Swastika) সঙ্গে ‘ক্রান্তি’ (kranti), ‘মস্তান’ (mastan), ‘সাথীহারা’ (sathihara) ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

পরবর্তীকালে তিনি অভিনেতার (actor) পাশাপাশি প্রযোজক (producer) হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। ভাবলেই অবাক লাগে যে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পিছিয়ে পড়া সময়ে যিনি প্রায় একাই টিকিয়ে রেখেছিলো বাংলা সিনেমার (Tollywood) জগতকে, টলিউড কোনোদিনই তাকে তার প্রাপ্য সন্মানটা দিলো না। তার ঝুলিতে নেই ‘মহানায়ক’ বা ‘বঙ্গবিভূষণ’ -এর মতো অ্যাওয়ার্ড (award)। হয়তো রাজনীতি (Politics) থেকে বহু দূরে থাকার কারণেই তার ছবি দেখানো হয় না ‘নন্দন’ (Nandan)-এর মতো প্রেক্ষাগৃহে।

যে একসময় ‘দুই পৃথিবী’ (Dui prithibi), ‘সাথী’ (Sathi), ‘অসুর’ (Asur) -এর মতো সিনেমা উপহার দিয়েছে আমাদের, তাকে নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের (New generation) মধ্যে কোনো‌ মাতামাতি নেই, কোনো উত্তেজনা (interest) নেই। তবু সে নিঃশব্দে নিজের মতো কাজ করে চলেছে। তবে সম্প্রতি তার ‘বাজি’ (Bazi), ‘রাবণ’ (Ravaan) ইত্যাদি ছবিগুলো তেমন জনপ্রিয়তা (popularity) খুব একটা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি সরাসরি সংবাদ মাধ্যমের (news) প্রচারের আলোতেও খুব একটা আসে না। তাকে নিয়ে খুব বেশী মাতামাতি হয় না, তার ছবি এখন আর পায় না খুব বেশী হলও। একসময় তার ছবির প্রতিটা গান ঘুরতো তরুণ প্রজন্মের মুখেমুখে, তরুণীদের ডায়েরিতে আটকানো থাকতো তার ছবির পেপার কাটিং, এখন সে-ই টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood industry) থেকেও নেই বললেই চলে।

Leave a Comment